শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৭

ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের প্রতিযোগী ভাবছে এমবিবিএস চিকিৎসকরা !!!




উচ্চশিক্ষা সহ চার দফা দাবিতে আন্দোলনরত ম্যাটস শিক্ষার্থীরা গত কয়েকদিন ধরে সারাদেশে নানা কর্মসূচী পালন করে আসছে। এরই মধ্যে তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ, স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি ঘেরাও , স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঘেরাও সহ বেশ কিছু কর্ম সূচী পালন করেছে। এসব কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট, ফাকা গুলির মতো অনাকাঙ্খিত ঘটনার সম্মূখিন হতে হয়েছে বাগেরহাট, রাজশাহী, বগুড়া, নোয়াখালী, কুষ্টিয়া সহ বেশ কিছু জায়গায়।

"শিক্ষা মোদের দাবী নয়, শিক্ষা মোদের অধিকার" স্লোগানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর সারাদেশে পুলিশের নগ্ন আক্রমনে আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে  অনেকে, যাদের কয়েক জনের অবস্থা আশংঙ্কা জনক। এছাড়া পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারের অন্ধকারে দিনাতিপাত করছেন অনেক ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষার্থী।


সোস্যাল মিডিয়া জুড়ে চলছে ম্যাটস আন্দোলন নিয়ে আলোচনা। বেশীরভাগ মানুষই যৌক্তিক বলে মানছেন দাবিগুলোকে। তবে কিছু কিছু এমবিবিএস চিকিৎসক, চিকিৎসকদের পেজ এবং গ্রুপ থেকে সমালোচনাও করা হচ্ছে। তবে সেসব সমালোচনায় যৌক্তিকতা ও বস্তুনিষ্ঠতার অভাবের বিষয়টা সহজেই চোখে পড়ে। যেমন গত ২৬ এপ্রিল চিকিৎসকদের জনপ্রিয় পেজ 'BCS Health Cadre'থেকে এক পোস্টে  ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের 'হাতুড়ে মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্ট' বলে সম্বোধন করা হয় এবং বলা হয় এদের কাজ ব্রাদার দিয়েও করিয়ে নেওয়া যায়। পোস্টটি ছিল এমন "সরকারি বেসরকারি মিলে দেশে এখন প্রচুর MBBS ডাক্তার তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিকতার এই যুগে গণহারে হাতুড়ে Medical assistant তৈরি করার প্রয়োজন আছে কি?
আপনাদের সুচিন্তিত মতামত আশা করছি? (মেডিকেল এসিস্টেন্ট দের কাজ ব্রাদার দিয়ে চালানো সম্ভব)"।


কমেন্টে অনেক ডিপ্লোমা চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। আবার অনেক এমবিবিএস চিকিৎসকরাও ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের বিষয়ে এমন মানহানিকর মন্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। মাহবুবুর রহমান নামে একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা  বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবায় উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসাবে কর্মরত ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের অবদান তুলে ধরে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

তিনি লেখেন 'কাউকে ছোট করে কেউ বড় হয় না। আমি SACMO দের কাছে কৃতজ্ঞ । প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা স্থানে থেকে দেবার মত MBBS ডাক্তার আমার চোখে পড়ে না। আমি সপ্তাহে ৫ দিনের বেশি ইউনিয়ন সাব সেন্টারে থাকতে পারি নাই । উনাদের সহযোগীতা না পেলে RMO হিসাবে উপজেলা হাসপাতালের Emergency রাতে চালাতে পারতাম না । স্থানীয় জনগনের সম্পৃক্ততা ছাড়া প্রান্তিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলো চালানো কঠিন'। 



আবার খালেদ ইব্রাহিম নামের এক চিকিৎসক ঐ পোস্টের মন্তব্যে বাংলাদেশে এন্টিবায়োটিক রেজিন্ট্যান্স হওয়ার জন্য ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের দায়ী করেন । এবং একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনের উল্লেখ করেন। যেটার কোন সত্যতা নেই। তিনি লেখেন 'সরকার খুব শীঘ্রই ম্যাটসগুলো বন্ধ করে দিবে।নতুন করে কোন ম্যাটস অনুমোদন পাবে না। এটা নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। অর্ধ শিক্ষিত মেডিকেল এসিস্ট্যান্টরা দেশে এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স এর মূল কারন তা একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ঊঠে এসেছে। WHO পরামর্শ দিয়েছে চিকিৎসা সেবার ভার বেশী মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দিয়ে এমবিবিএস চিকিৎসকদের হাতে দিতে। সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে'।


যেখানে বাংলাদেশে ওষুধ বিক্রেতা এবং পল্লী চিকিৎসকরা রোগীদের ইচ্ছামত এন্টিবায়োটিক দিয়ে যাচ্ছেন, এমনকি রোগী নিজেও নিজের মন মত এন্টিবায়োটিক কিনে সেবন করছেন, সেখানে এর জন্য ৪ বছর মেডিকেল শিক্ষা গ্রহণ করা ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের দায়ী করা নির্লজ্য আক্রমণ ছাড়া আর কিছুই না। 

কিন্ত একজন চিকিৎসক হয়েও কেন ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের প্রতি কারো কারো এত বিদ্বেষ? প্রকৃতপক্ষে প্রাকটিসের ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের সাথে এমবিবিএস চিকিৎসকদের প্রতিযোগিতা থাকার কারণেই এমন প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে উঠছেন কোন কোন এমবিবিএস চিকিৎসক। কিন্তু এমবিবিএস চিকিৎসক জাতির এই ক্ষুদ্র অংশ কোনভাবেই পুরো জাতির প্রতিনিধিত্ব করে না।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, এমবিবিএস চিকিৎসক, ডিপ্লোমা চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্য সেবায় কর্মরত অন্য সকল পেশাজীবিদের সম্মিলিত প্রয়াসই কেবল পারে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতকে এগিয়ে নিতে। তাই সকলেরই উচিত অন্যদের যৌক্তিক দাবিগুলোর প্রতি সম্মান দেখান এবং সমর্থন জানানো।