বুধবার, ১০ মার্চ, ২০২১

ভাব-সম্প্রসারণ : “অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।”

“অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে
তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।”


মূলভাব : 

যে ব্যক্তি খারাপ কাজ করে আর যে সব জেনেও কোন প্রতিবাদ না করে মুখ বুজে সহ্য করে তারা দু'জনেই সমদোষে দোষী। তাই উভয়েই সমান শাস্তি হওয়া উচিৎ।

সম্প্রসারিত ভাব : 

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। কারন তার আছে বিবেক, ভাল আর মন্দের তফাৎ বোঝার ক্ষমতা। মানুষই একমাত্র প্রানী যে কেবল ন্যায় আর অন্যায় এর মাঝে পার্থক্য করতে পারে। মানুষের বিবেক আছে বলেই সে সিদ্ধান্ত নিতে পারে - তার কি করা উচিত আর কোনটি করা অনুচিত।  এর পরও সমাজে কিছু মানুষ আছে যারা বিবেকের সেই সদা সত্য নির্দেশ উপেক্ষা করে কেবল ব্যক্তি স্বার্থ সিদ্ধির জন্য অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়। নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য অন্যের ক্ষতি সাধন করে, সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। নিঃসন্দেহে এমন ব্যক্তি ঘৃনিত অপরাধি। 

কিন্তু আমাদের সমাজে আরও এক শ্রেনীর মানুষ আছে যারা নিজে কারও ক্ষতি করে না বা কোন অন্যায় কাজে লিপ্ত হয় না। তারা নিরিহ প্রকৃতির। তাদের সামনে কোন অন্যায় সংঘটিত হলেও তারা সদা নির্বাক থাকে। তারা কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করেনা। তারা ভয় ভিতীর কাছে পরাস্থ্য হয়ে নিশ্চুপ থাকে, তাদের সামনে ঘটে যাওয়া অন্যায় অত্যাচার গুলো মুখ বুঝে সয়ে যায়। তাদের এই নিরব ভুমিকার কারনে প্রকৃত অপরাধী অপরাধ করেও বার বার শাস্তি থেকে বেচে যায়। তাদের এই নিরব ভুমিকার কারনে প্রকৃত অপরাধি পরোক্ষ ভাবে অপরাধ করার জন্য উৎসাহ পায়। কেননা, এই সব ব্যক্তি যদি অপরাধির অপরাধ জেনে বুঝেও চুপ করে না থেকে প্রতিবাদ করতো তবে অপরাধি আর কখনো অপরাধ করার সাহস পেত না। 

তাই এটা বলা যায়, যে ব্যক্তি অপরাধ করে আর যে ব্যক্তি সব জেনে বুঝেও কোন প্রতিবাদ করে না তারা দুজন'ই সমান দোষে দোষী। তারা দুজনই শাস্তির যোগ্য। 

মন্তব্য : 

ক্ষমাশীলতা একটি মহৎ গুণ। কিন্তু ক্ষমারও সীমা থাকা উচিত। কেননা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া জঘন্যতম অন্যায়। তাই এক্ষেত্রে দুই পক্ষেরই ধ্বংস সুনিশ্চিত।