বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১

ভাবসম্প্রসারনঃ অভাব অল্প হলে দুঃখও অল্প হয়ে থাকে

অভাব অল্প হলে দুঃখও অল্প হয়ে থাকে


মূলভাব : 

অভাববোধ বা সীমাহীন চাহিদা মানুষের জীবনে দুঃখের প্রধান কারন। চাহিদার তারতম্যের ওপর নির্ভর করে দুঃখবোধের আধিক্য।

সম্প্রসারিত ভাবঃ 

“মানবের প্রয়োজন যাতে
 বিধি তাহা দিলেন সকলি, 
মন গড়া অভাব সৃজিয়া 
দুঃখ পাই আমরা কেবলি।” 

মানুষের জীবনে চাহিদার শেষ নেই। এই সীমাহীন চাহিদা সৃষ্টির আদিকাল থেকে মানুষকে তাড়া করে ফিরছে। মানুষের একটি অভাব পূরণ হলে তার জীবনে নতুন একটি চাওয়ার সুচনা হয়। সেই নতুন ইচ্ছাকে পুরনের লক্ষে শুরু হয় মানবের নতুন পথ চলা, নতুন এক সংগ্রামের। এ ভাবেই ঝঞাটময় জীবনে কোনো না কোনো অভাব তাকে পীড়িত করে রাখে। 


দুঃখ-দারিদ্র্য, রোগ-শোক নিয়েই আমাদের এ জীবন। কিন্তু অভাবকে যতই দূর করার চেষ্টা করা হোক না কেন তা যেন মানুষের নিত্যসঙ্গী। মানুষ যদি শুধু অভাবের দিকেই খেয়াল করে তবে তার যেন দুঃখ-কষ্টের সীমা থাকে না। একমাত্র অভাব নিয়ে চিন্তা করার ফলে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের জীবনে আজ দুঃখ দুর্দশা বেড়ে চলেছে। যারা প্রকৃত বুদ্ধিমান তারা কখনো অভাবকে বড় করে দেখে না। আমাদের প্রিয় নবি (স)-এর জীবন অভাব-অনটনে ভরপুর ছিল। কিন্তু তিনি এ অভাবকে দূরে ঠেলে দৈনন্দিন জীবনের কাজ-কর্ম চালিয়ে গিয়েছেন। তাঁর এ আদর্শ আমাদের জন্য অনুসরণীয়।

যে অভাবের কারণে মানুষের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার সেই অভাবকে বিবেচনা না করলে জীবনের দুঃখ-দুর্দশা যে কত কমে আসে তা একজন অভাবী ব্যক্তিই উপলদ্ধি করতে পারে। এ জন্যে জীবন থেকে যত পারা যায় অভাববোধকে কমাতে হবে, তাহলেই দুঃখবোধও কমবে। কেননা, মানব জীবনের অধিকাংশ অভাবই মানসিক। আমার যা আছে যদি তাতেই সন্তুষ্ট থাকা যায় তবেই মানব জীবনের দুঃখ অনেকাংশে দূর করা সম্ভব। প্রকৃতপক্ষে স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভাব বড় নয়, সুখের সংসার সৃষ্টিতে দুঃখ দূরীভূত হয়।

মন্তব্য: 

অভাবকে অভাব হিসেবে বিবেচনা না করলে দুঃখের আগমন ঘটে না। তাই জীবন থেকে অভাববোধকে দূরে রাখার চেষ্টা করতে হবে।