মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১

"ই" "I" দিয়ে হিন্দু মেয়ে শিশুর নাম"

"ই" "I" দিয়ে হিন্দু মেয়ে শিশুর নাম

Hindu Baby Name With "I" (Hindu Girls Name)

ইচ্ছামতিঃ ইছামতি নদী বা ইছামতি-কালিন্দি নদী বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। এটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।
নদীর মতো পরোপকারী, উদার, লক্ষ্য অর্জনে উদ্দাম ছুটে চলা কন্যার নাম 'ইছামতী' রাখতে পারেন।
ইতিঃ শেষ, সমাপ্তি।
সাধারনত সর্বকনিষ্ঠ কন্যার নাম 'ইতি' বা 'সমাপ্তি' রাখার প্রবনতা দেখা যায়।
ইতুঃ সূর্য, মিত্র
সাধারনত বাংলা অগ্রহায়ন মাসে 'ইতু' পূজা করা হয়ে থাকে।
ইন্দিরাঃ লক্ষ্মী, ধন ও সৌভাগ্যের দেবী
ইন্দুঃ চন্দ্র, চাঁদ
চাঁদের মতো সুন্দর মেয়ের নাম 'ইন্দু' ছাড়া আর কিই বা হতে পারে!
ইন্দুলেখাঃ চন্দ্রকলা, বাঁকা চাঁদ; সোমলতা
চন্দ্রকলা হচ্ছে পৃথিবী হতে দৃশ্যমান চাঁদের ক্ষয় এবং বৃদ্ধি। সূর্যের চারপাশে পৃথিবী এবং পৃথিবীর চারপাশে চাঁদের অবস্থানের সাপেক্ষে চন্দ্রকলার আকৃতি পরিবর্তন ঘটে। প্রতিবার এতে সময় লাগে প্রায় ২৯.৫৩ দিন এবং এ সময়কালকে চান্দ্রমাস বলে।
ইন্দ্রাণীঃ ইন্দ্রের স্ত্রী, শচীদেবী, স্বর্গের রাণী
ইরাঃ দক্ষের কন্যা, কশ্যপের স্ত্রী, পৃথিবী, সুরা, জল; বাণী; অন্ন।
ইরাবতীঃ উত্তরের কন্যা, পরীক্ষিতের স্ত্রী
ইরাবতী বা রবি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ভারত ও পাকিস্তান অতিক্রম করে একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। এটি পাঞ্জাব অঞ্চলের সিন্ধু প্রণালীর ছয়টি নদীর একটি।
ইলোরাঃ গুহাবিশেষ
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের আওরঙ্গবাদ শহর থেকে ৩০ কিমি দূরে অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। রাষ্ট্রকুট রাজবংশ এই নিদর্শনের স্থাপনাগুলো নির্মাণ করেছিল। এখানে রয়েছে প্রচুর স্মৃতিসংবলিত গুহার সারি। এটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান মর্যাদায় ভূষিত হয়েছে।
ইলাঃ বৈবস্বত মনুর কন্যা, পুরুরবার মাতা ইষীকা, পৃথিবী; ধেনু; বাণী; সুরা; জল; বুধপত্নী।
ইশীকা/ ইষিকা/ ইষীকা/ ঈষিকাঃ কাশতৃণ, হাতীর চক্ষু কোটর।
ঈশানীঃ দুর্গা, মহেশ্বরী
ঈশিতাঃ পরমাত্মা, ঈশিত্ব, ঈশ্বরত্ব, ঈশ্বরের মহিমা, ঐশ্চর্য বিশেষ, প্রভুত্ব বা প্রভুত্ব করার ক্ষমতা।




শিশুর নামকরন লক্ষনীয়ঃ 


একটি সুন্দর নাম আপনার সন্তানের সারা জিবনের পরিচয়। তাই একটি শিশুর জন্য একটি সুন্দর ও অর্থবহ নাম নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরী। হিন্দু শিশুদের নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা অতিব জরুরী। যেমনঃ নামের আদ্যক্ষর, নামের হিন্দু ধর্মীয় অর্থ ও ব্যাখ্যা, বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপট, ইতিহাসে একই নামে বিক্ষাত ও কুক্ষাত ব্যক্তি বা চরিত্র, নামের বাংলা ও ইংরেজি বানান, শ্রুতি মধুরতা ইত্যাদি। এছাড়াও অনেকেই সন্তানের নাম রাখার ক্ষেত্রে পিতা-মাতার নামের সাথে মিল, পিতা-মাতার নামের আদ্যক্ষরের মিল, বিখ্যাত মানুষের নামের সাথে মিল, আধুনিক নাম নির্বাচন ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। অনেকেই সন্তানের নাম রাখার ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত ছোট ও আধুনিক নাম খুজে থাকেন। 

এখানে মুল কথা হচ্ছে- যে দিক বিবেচনা করে আপনার সন্তানের নাম নির্বাচন করেননা কেন, সকল ক্ষেত্রে উপরে আলোচিত বিষয় গুলো গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আপনার খেয়াল-খুশি বা অপরিপক্ক সিদ্ধান্তের কারনে আপনার সন্তান সামাজিক জীবন, শিক্ষা ক্ষেত্র, কর্ম ক্ষেত্রে পদে পদে বিড়ম্বনার শিকার হতে পারে। নামের বানান বা উচ্চারন যদি সরল ও স্বাভাবিক না হয় তবে সৃষ্টি হতে পারে এ ধরনের জটিলতার। আবার, কিছু নাম আছে যা যথেষ্ট অর্থবহ তবুও সমাজে এই শব্দগুলো ব্যাঙ্গাত্ত্বক বা হীন অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।  এ ধরনের নাম পরিহার করাই শ্রেয়। শুভ হোক আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ।